এলইডির জনপ্রিয়তায় সিআরটির দিন শেষ !

বেশ অনেক বছর আগেই দেশের বাজারে এলইডি (লাইট এমিটিং ডায়োড) টিভির জনপ্রিয়তা ঊর্ধ্বমুখী। একসময় এই দেশের বাজারে সিআরটি (ক্যাথড রে টিউব) টেলিভিশনের খুব জনপ্রিয়তা ছিল। সিআরটি টেলিভিশনকে দূরে ফেলে এখন এলইডি টিভি বাজারের মধ্যে খুব জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। প্রযুক্তির সুফল ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার জন্য সিআরটির দামেই এলইডি টিভি বাজারে ছেড়েছে দেশি কম্পানিগুলো। তাই এখন পিরাই সব শ্রেণির মানুষ এলইডি টিভির দিকে যাচ্ছে। নিম্ন আয়ের মানুষ গুলো ব্র্যান্ডের এলইডি কিনতে না পারলেও কম দামে এখন বিভিন্ন চীনা কম্পানির নন-ব্র্যান্ডের এলইডি টিভি কিনছেন।

জানা যায়, যে পুরনো ও ব্যবহৃত সিআরটি টিভির পিকচার টিউব স্বাস্থ্যের এবং পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হওয়ার জন্য সরকার সেটার আমদানি নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। তার পরও কিছু কিছু ব্যবসায়ী আছে যারা এখনো কিছু পুরনো পিকচার টিউব সংগ্রহ করে নতুনভাবে পরিচালনা করছেন সনি, স্যামসাং, এলজিসহ নানান ব্র্যান্ডের লোগো ব্যবহার করে বাজারজাত করে। পণ্যমান যাচাই করার প্রয়োজন মনে না করে বিদেশি ব্র্যান্ডের লোগো দেখে এবং স্বল্পমূল্য হওয়ার কারনে এসব টিভি কিনে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন ক্রেতারা।

এদিকে এলজি, স্যামসাং, সিঙ্গার, ওয়ালটনসহ আরও বিভিন্ন ব্র্যান্ডগুলো বেশ কয়েক বছর আগেই সিআরটি টেলিভিশন গুলোর উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে। সিআরটি মনিটর অ্যানালগ মনিটর হিসেবে পরিচিত হলেও এলসিডি ও এলইডি মনিটর ডিজিটাল মনিটর হিসেবেই এখনো পরিচিত। মূলত সিআরটি, এলসিডি ও এলইডি মনিটরের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে শুধু প্রযুক্তিগত।

চিকিৎসাবিদদের কথা মতে, পুরনো পিকচার টিউব হলো এক ধরনের বিষাক্ত পদার্থ। এসব দিয়ে তৈরি করা টেলিভিশন থেকে নির্গত গামা রশ্মি দেহ ও চোখের জন্য খুব অত্যন্ত ক্ষতিকর। অন্যদিকে পুরনো পিকচার টিউবের কালার রশ্মি ওজোন স্তরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে পরিবেশকে বিপর্যয় করছে।

গত মঙ্গলবার সরেজমিনে রাজধানীর নানান মার্কেট ও ব্র্যান্ডের শোরুম ঘুরে থেকে জানা যায়, ব্র্যান্ডের কম্পানিগুলো ছয়-সাত বছর আগেই সিআরটি টেলিভিশনের উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছেন। এখন ব্র্যান্ডের নামে যে সব মার্কেটে ইলেকট্রিক পণ্যের দোকানে যে সিআরটি টেলিভিশন বিক্রয় করা হচ্ছে, সে গুলা সবই নকল।

বাড্ডায় জিকে ইলেকট্রনিকসের মালিক আমিনুল ইসলামের দোকানে এলইডি টিভির সঙ্গে ১৪ ও ২১ ইঞ্চির দুটি সিআরটি টেলিভিশন দেখা যাচ্ছে। যদিও ১৪ ইঞ্চি সিআরটি টেলিভিশন টাই এলজি ব্র্যান্ডের নাম লেখা ছিল। জানতে চাইলে সে বলেন, ‘এটা আসল এলজি না, লোকাল এলজি। সিআরটি টেলিভিশনের কিছু ক্রেতা এখনো রয়েছে। মূলত নিম্ন আয়ের মানুষ গুলো এখনো সিআরটি কিনে। আবার এলইডি টিভি ভেঙে যাবে এই ভয়ে সিআরটি কিনছে অনেকে। তবে তিন-চার পর পর মাসে একটি বিক্রি হয়। এখন বাজারে নন-ব্র্যান্ডের আর একটি এলইডি টিভি ও সিআরটি টেলিভিশনের দাম পিরাই একই।’

Leave a Reply

Your email address will not be published.