লিচুর বাগান নিয়ে চিন্তিত চাষিরা

সারা দেশে মাগুরা জেলার লিচুর বিশেষ এক চাহিদা আছে। কিন্তু এ বছরে গ্রীষ্মের কারণে শুরু থেকেই অসহনীয় তাপমাত্রার কারণে লিচু বাগান নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন চাষিরা।

মাগুরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বললেন যে, এ বছর এই জেলায় ৫৮৮ হেক্টর জমিতে লিচু চাষ করা হয়েছে। কিন্তু গত ১৫ দিন থেকে অব্যাহত তাপদাহ স্বাভাবিক উৎপাদনের বিষয়ে শঙ্কা সৃষ্টি করছে। অধিকাংশ সময় ৩৮-৪১ ডিগ্রি পর্যন্ত তাপমাত্রা কমছে বাড়ছে এমন করছে। এতে লিচুর স্বাভাবিক রঙ নষ্ট হচ্ছে পাশাপাশি স্বাভাবিক বৃদ্ধিও ব্যহত হচ্ছে।

এদিকে কৃষকদের দাবি, এ অবস্থায় কোনো বেবসায়ি আগ্রহী হচ্ছে না বাগান নিবে হলে এই তাপমাত্রা জন্য হয়।

মাগুরা সদরের ইছাখাদা গ্রামের এক লিচু চাষি রোমিজ শেখ বললেন আমি, এ বছর ৮০ শতাংশ জমিতে লিচু চাষ করেছি ভালো হবে দেখে। বৃষ্টির অভাবে লিচু বড় হয়ে উঠতে পারছে না এবং এর অস্বাভাবিক রঙ দেখে আমি হতাশ হইয়ে যায়। অন্যান্য বছর লিচু থেকে আমি কয়েক লাখ টাকা
লাভ আয় হলেও এবার বড় একটা ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে বলে মনে করি আমি।

আরেক কৃষক আক্কাস আলী বললেন, যে করোনার কারণে আমি গত বছর লিচুতে লাভের মুখ দেখিনি। এ বছর আবহাওয়ার খারাপ এর জন্য লিচু বাগান কিনতে কোনো ব্যাপারী আগ্রহ করছে না।

শিবরামপুর গ্রামের এক লিচু চাষি সরোয়ার হোসেন বললেন যে অন্যবার এপ্রিল মাসের মধ্যেই আমাদের বাগানের সব লিচু বিক্রি হয় কিনে ফেলে ব্যাপারিরা। এবার এমন হয়ছে যে এখন পর্যন্ত কেউ আগ্রহ দেখায়নি। আমি আমার ২ বিঘা জমিতে লিচু চাষ করেছি প্রায় দুই লাখ টাকা খরচ করে। এর সাথে চলছে আবার করোনা। জানিনা এরপর থেকে আর লিচু চাষ করা হবে কিনা।আমি আশা করছি যে সরকার আমাদের পাশে দাঁড়াবে।

মাগুরা সদর উপজেলার বড় কৃষি অফিসার আবু তালহা বলেন, অব্যাহত খরার কারণে লিচু নিয়ে এবার কৃষকেরা খুব শঙ্কার মধ্যে পরে গেছে। তবে যদি দু-একদিনের মধ্যে একটু বৃষ্টি হই তাহলে পরস্থিতির উন্নতি হবে। আর সরকারি প্রণোদনা আমাদের হাতে নাই। তবে আমার কর্তৃপক্ষের কাছে আমরা লিখিত সুপারিশ করছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.